Quick কুইজ প্রতিযোগিতা Quick কুইজ প্রতিযোগিতা Quick কুইজ প্রতিযোগিতা আজকেই অংশগ্রহণ এবং মূল্যবান পুরস্কার অর্জন করুন। নূন্যতম প্রাইজ ( 100 SR ) 100 সৌদি রিয়াল ।     সম্মানিত দর্শক, শ্রতা ও পাঠকগণ, আপনারাদের সুবিধার জন্য ওয়েব সাইটের মূল প্যাজে ভিডিও অপশান বাড়ানো হলো। এখন খেকে আপনারা শতাধিক ভিডিও থেকে প্রয়োজন অনুসারে নিজ পছন্নমত বিষয় নির্বাচন করে দেখতে পারবেন।     সম্মানিত দর্শক ও শ্রতাগণ, আপনাদেরকে সবিনয় অনুরোধ করা যাছে যে, আপনারা আপনাদের যে কোন গঠনমূলক সমালোচনা ও সুপরামর্শ জানিয়ে আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে ভুলবেন না। আপনাদের সুপরামর্শের জন্য আপনাদেরকে অনেক অনেক ধন্যবাদ ।    
  • দর্শক কাউন্টার

    Flag Counter

     


    ,মীলাদুন্নবী (স:)-এর বিধান ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস الاحتفال بمولد النبي صلى الله عليه وسلم أحكامه وتاريخه باختصار





    بسم الله الرحمن الرحيم

    حكم الاحتفال بالمولد النبوي صلى الله عليه وسلم

    মীলাদুন্নবী (স:)-এর বিধান ও সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

    মীলাদুন্নবী অর্থঃ

    মীলাদ আরবী শব্দ যার আভিধানিক অর্থ জন্মের সময়। (আল-কামূসঃ ১/২১৫) অতএব, মীলাদুন্নবী অর্থ নবী (সঃ)-এর জন্মকাল এবং ঈদে মীলাদুন্নবী অর্থ নবী (সঃ)-এর জন্ম জয়নতী।

    নবী (সঃ)-এর জন্মঃ

    জন্ম বছর, মাস ও তারিখ নিয়ে অনেক মতভেদ রয়েছে। যেমন-কারো কারো মতে আবরাহার হাতীর বছরের ৪০, ৩০, ২৩, ১৫, ১০ বছর পরে। আবার কারো মতে হাতীর বছরেই। এ মতটিই প্রসিদ্ধ। কোন মাসে তাতেও মতানৈক্য আছেঃ কারো কারো মতে রবীউস সানী, রজব, রমজান, সফর মাসে। তবে অধিকাংশদের মতে রবীউল আওয়াল মাসে। আবার তারিখ নিয়েও অনেক মতভেদ রয়েছেঃ রবিউল আওয়ালের ১, ২, ৮, ৯, ১০, ১২, ১৩, ১৭, ১৮ তারিখে। তবে ৯ই রবিউল আওয়ালের মতটি অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম ও বিখ্যাত জ্যোতির্বিদ মাহমূদ পাশার অভিমত। নবী (সঃ)-এর জন্মদিন সোমবার এ ব্যাপারে কোন মতাভেদ নেই;কারণ নবী (সঃ) নিজেই বলেছেনঃ আমি সোমাবারে জন্ম গ্রহণ করেছি।[সহীহ মুসলিম] জন্মক্ষণ নিয়েও মতভেদ রয়েছেঃ দিনে, রাত্রে, ফজরের সময়। এ মতটি বেশি প্রসিদ্ধ।

    নবী (সঃ)-এর মৃত্যুঃ

    প্রায় সকলের মতে নবী (সঃ)-এর মৃত্যু হয়েছিল ১১ হিজরীর ১২ই রবীউল আওয়াল সোমবার দুপুরের সময়।

    মীলাদ- জয়নতীর সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ

    মিসরের ইহূদী বাদশাহ মূসা আঃ-এর জন্মোত্সব পালন করত। ইহূদীদের এ কুপ্রথা খৃষ্টানদের মধ্যেও ছড়িয়ে যায়। ফলে তারা নবী ঈসা আঃ-এর জয়নতী ক্রিসমাস ডে ২৫শে ডিসেম্বর পালন করতে থাকে। বিশ্বনবী (সঃ)-এর যুগ থেকে সুদীর্ঘ ৩৫০ বছর ধরে মুসলিমদের মাঝে কোন মীলাদুন্নবী ও কারো জয়নতীই পালিত হয়নি।

    হিজরীর চতুর্থ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে ফাতেমী খলীফা মুঈয লিদ্বীনিল্লাহ ইহূদী ও খৃষ্টানদের জয়নতী অনুকরণে মীলাদুন্নবী, আলী, ফাতেমা, হাসান, হুসাইন ও উপসতিত খলীফা সহ মোট ছয় জনের মীলাদ (জন্ম জয়নতী) ইসলামে সর্ব প্রথম আমদানি করে। আনুমানিক ৬০৪ হিজরীতে উমার ইবনে মুহাম্মাদ মুল্লা নামে এক প্রসিদ্ধ সূফী ব্যক্তি ইরাকের মাওসেল শহরে সুন্নীদের মধ্যে প্রথম মীলাদুন্নবী পালন করেন। তার অনুসরণে ইরাকের আরবীল {أربيل} শহরের বাদশাহ মুআযযাম মুযাফ্‌ফারুদ্দীন আবূ সাঈদ ইবনে আলী ইবনে বুক্তকীণ কুকুবুরী ধূমধামের সাথে এ অনুষ্ঠান পালন করতে থাকে। ঐ দিনে ৫ হাজার খাসী-দুম্বা ও ১০ হাজার মুরগী জবাই করা হত এবং ১লক্ষ দইয়ের পেয়ালা ও ৩০ হাজার মিষ্টির প্লেটের ব্যবসা  করা হত। এ উত্সবে সর্বমোট ৬ লক্ষ স্বর্ণ দিনার খরচ করা হত। ঐদিনে জোহর থেকে ফজর পর্যন- সুফীদের জন্য গান শোনার আসর বসত। বাদশাহ স্বয়ং সূফীদের সাথে নাচত। [সিয়ারু আলামিন নুবালা, হাফেজ যাহাবী এবং বিদায়াহ ও নিহায়াহ, হাফেজ ইবনে কাছীর দ্রষ্টব্য]

    মীলাদুন্নবীর বিধান:

    প্রথমতঃ ইহা জঘন্য একটি বিদআতঃ দ্বীনের মাঝে সওয়াব হাসিলের উদ্দেশ্যে নব আবিস্কার; কারণ এর কোন দলিল কুরআনে ও সহীহ হাদীসে নেই। আল্লাহ ট এরশাদ করেনঃ তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা নাযিল করা হয়েছে তোমরা তার অনুসরণ কর, তাঁকে (তোমাদের প্রতিপালকে) ছেড়ে অন্যান্য ওলীদের (বন্ধুদের) অনুসরণ করো না। তোমরা খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক। [সূরা আরাফঃ ৩] আল্লাহ আরো এরশাদ করেনঃ রাসূল তোমাদেরর কাছে যা এনেছেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। [ সূরা হাশরঃ ৭] নবী (সঃ) বলেনঃ যে ব্যক্তি এমন কোন আমল করে যার নির্দেশ আমরা দেইনি তা প্রত্যাখ্যাত। [মুসলিম] নবী (স:) আরো বলেনঃ তোমরা (ইসলামে) নব আবিষ্কার থেকে দূরে থাক; কারণ নিশ্চয়ই প্রত্যেক নব আবিষ্কারই বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আতই ভ্রষ্টতা, আর প্রত্যেক ভ্রষ্টই জাহান্নামে। [সহীহুল জামে ২৫৪৬]

    দ্বিতীয়তঃ নবী স: নিজের, তাঁর সব চেয়ে প্রিয়তমা স্ত্রী খাদীজা (রাঃ), তাঁর ছেলে-মেয়েদের কারো জন্ম উত্সব বা মৃত্যুর শোক দিবস পালন করেননি।

    তাঁর মৃত্যুর পর সর্বোত্তম প্রথম তিন স্বর্ণ যুগে কোন খলীফা বা সাহাবীও তা করেননি।  কোন তাবেঈ বা তাবে’ তাবেঈ  কিংবা কোন ইমামও তা করেননি।

    তৃতীয়তঃ এটা একটি বিজাতীয় অনুকরণ। ইহূদী, খৃষ্টান, অগ্নিপূজক, হিন্দু ও কাফের-মুশরিকদের আবিষকৃত কুপ্রথা যা পরিত্যাজ্য। কারণ; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) বিজাতিদের অনুসরণ করতে কঠোর ভাবে নিষেধ করেছেন।

    সংকলনেঃ

    উমার ফারুক আব্দুল্লাহ

    সম্পাদনায়ঃ

    শায়খ সাইফুদ্দীন বেলাল

    আল-আহসা ইসলামিক সেন্টার। সৌদি আরব